সন্তানের
ভাবনা
আমার বয়স ১২
থেকে ১৯-এর ভিতরে। আমার পরিবার আমাকে ভাল চোখে দেখে না। সবকিছু আমার ছোট
ভাই-বোনদের বেশি বেশি দেয়। আমি বড় মেয়ে বলে আমাকে কম আদর করে। কেন আমি তাদের মত
আদর-যত্ন পাব না?
অভিভাবকের
ভাবনা
১।পরিবারের
বড় যারা, অথাৎ যারা অভিভাবক তারা মনে করেন সন্তান বড় হয়েছে তাই তারা বা
তাদের দিকে বেশি নজর দেওয়ার দরকার নেই। অন্যরা যারা ছোট আছে তাদের প্রতি খেয়াল
রাখা প্রয়োজন।
২।
তারা মনে করেন সে বড় হচ্ছে, ধীরে ধীরে বড় হবে আর যারা ছোট আছে তাদের মানুষ করা
দরকার।
৩।
ছোট তাই তাদের বেড়ে ওঠার জন্য বাড়তি খাবার দিতে হবে।
৪।
পড়াশোনায় ভাল না করলেও ছোটদের ভাল বলতে হবে।
৫।
চকলেট, আইসক্রিম, ভাল পোশাক এমনকি ডিম ভাঁজি, মাছের মাথা, মাংশ, ফল ইত্যাদি বেশি
বেশি দিতে হবে।
যা
প্রয়োজন
অভিভাবকের
প্রতি:
১।
আপনার একান্ত কর্তব্য আপনার সকল কন্যা সন্তানকে একই দৃষ্টিকোন থেকে দেখা।
২।
প্রত্যেক সন্তানের দরকার বন্ধুশুলভ আচরশীল মা-বাবা। তাদেরকে স্নেহ-আদর দিতে হবে।
৩।
১২ থেকে ১৯ বছর বয়সী মেয়েদের দিকে বেশি বেশি খেয়াল রাখতে হবে। কারণ তারা অনেক কিছু
জীবনে প্রথম দেখে থাকে। যেমন: মাসিক বা ঋতুস্রাব,
ঘুমের ভিতর অদ্ভুত স্বপ্ন অথবা কেউ তাকে পিছন থেকে ধরার চেষ্টা করছে। এসকল বিষয়
সম্পর্কে তাদের সচেতন করতে হবে।
৪।
আপনার সন্তান যাতে ভালভাবে বড় হতে পারে সেদিকে আপনাকেই খেয়াল রাখতে হবে।
সন্তানের
প্রতি:
১।
তুমি দাদা-দাদী, নানা-নানী, দাদু-দিদিমা, ঠাকুরদাদা-ঠাকুরমা- মুরব্বিদের নিকট
তোমার পিতা-মাতার নামে নালিশ করবে। বলবে, কেন তারা তোমার প্রতি এমনটি করছে?
২।
নিজে নিজে সমাধান কর। প্রয়োজনে পিতা-মাতাকে বল, ওটা আমাকে দিতে হবে, যেটা আমার ছোট
ভাইকে দিচ্ছ।
৩।
তাদের বল, আমি কি পরগাছা? (লোকে ভাবছে আমি ছেলে মেয়েদের বেয়াদবী সেখাচ্ছি। তাহলে
উত্তর দেবেন সেই ব্যক্তিগন--- পিতা-মাতারা সবই জানেন, তার ওটা-সেটা প্রয়োজন, তবে
কেন দিচ্ছেন না তাকে সেগুলো? তাকে না দিয়ে তার চোখের সামনে ছোট ভাই-বোনকে দিচ্ছে।
তারা কি অন্যায় করছে না?)
৪।
প্রয়োজনে পিতা-মাতাকে মুখ ফুটে বল, মা/বাবা আমার এটা/ওটা লাগবে।( অবশ্যই বলতে হবে,
যদি তারা বিবেকবান হয়ে থাকেন তবে অবশ্যই তোমার কথা বিবেচনা করবে।)
৫।
মাসিক/ঋতুস্রাব এর পূর্বে কাপড়/ন্যাকড়া কাছে রাখবে। (যদি দামী জিনিস কেনা সম্ভব না
হয়)
সন্তানের
ভুল:
১।
মেয়ে সারাদিন ঘুরে বেড়ায়। বেখেয়ালে থাকে। অথাৎ
লোকে তাকে খারাপ মেয়ে বলে আখ্যায়িত করে। যেমন: বাজে ছেলে-মেয়েদের সাথে মিশে, আড্ডা
দেয়, রাত করে বাসায় ফেরে ইত্যাদি। তাদের উক্ত দাবি করা সাজে না।
২।
তুমি আর্দশবান নও। পারিবারে কোন সাহায্য করনা।
৩।
পিতা-মাতা তোমার কাছে যে প্রত্যাশা করে তা তুমি পুরণ কর না।
৪।
অতিরিক্ত মোবাইল ফোনে গল্প/আড্ডা দাও।
পিতা-মাতার
ভুল:
১।
সন্তানের মানসিক/শারীরিক অক্ষমতার দিক বিবেচনা না করে তার উপর কোন কাজ চাপিয়ে
দেওয়া।
২।
সে ছোট কিন্তু তার মনের কথা বোঝার চেষ্টা করেন না।
৩।
অবসর সময় তাকে কাছে ডেকে আদর করেন না।
৪।
বাইরে বা বাজারে গেলে তাকে বলেন না, “মামনি, তোমার কিছু লাগবে কি না?”।
৫।
পরীক্ষায় ভাল ফলাফলের কথা বলেন কিন্তু পড়ায় তার অসুবিধা হয় কি না জিজ্ঞাসা করেন
না।
৬।
সে যখন পড়ে তখন আপনারা/আশেপাশের কোন শব্দ/কোন ব্যক্তি তাকে ডিস্টাব/ বিরক্ত করে কি
না দেখেন না।
৭।
সন্তান পরীক্ষার সময় অসুস্থ্য ছিল তাই ফলাফল খারাপ হয়েছে অথচ আপনি তাকে গালি
দিচ্ছেন/বকা দিচ্ছেন। (মনে রাখবেন, এমন বকাঝকা করার কারনে অনেক ছেলে-মেয়ে
আত্মহত্যর পথ বেছে নেয়।)
এ বিষয়ে পরামর্শ:
১।
কন্যা সন্তানেরা তাদের মনের কথা পিতা-মাতাকে বলতে সাহস পায় না তাই আপনাকে জিজ্ঞাসা
করতে হবে, তার কোন ধরনের সমস্যা আছে।
২।
আপনি (পিতা বা মাতা), সন্তানের পূর্বে পৃথিবীতে এসেছেন তাই আপনি জানেন এই বয়সে
আপনারা কোন কোন ধরনের সমস্যা বা প্রাকৃতিক নিয়ম দেখেছেন বা উপলব্ধ করেছেন। সেই
বিষয় সম্পর্কে তাদের কিছু ধারনা দেওয়া প্রয়োজন।
৩।
সন্তানের অস্বাভাবিক আচনের প্রতি লক্ষ্য রাখুন।
৪।
এসময় সন্তানের ভিতর ব্যক্তিত্ববোধ তৈরি হয় তাই আলাদা ঘর প্রয়োজন এবং দরজা-জানালা
থাকতে হবে। অথবা একই ঘরে থাকলেও তাকে কিছুটা স্বাধীনতা দিতে হবে। যেমন: মেনস/ঋতুস্রাব/মাসিক
এর সময় সে যাতে টয়লেট/বাথরুমে ভালভাবে যেতে পারে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ
এসময় মেয়েরা লজ্জাবোধ করে। তারা মনে করে কেউ দেখে ফেলছে। হোকা না তারা মা-বাবা।
তাদের অবশ্যই প্রাইভেট ব্যাপার থাকতে পারে।
৫।
মেয়েরা এই বয়সে দোকান থেকে টিস্যুপেপার, পেন্টি অথবা মাসিক/ঋতুস্রাবচোষক টিস্যু
(সেনোরা,হুইসপা ইত্যাদি) কিনতে পারে না, লজ্জা পায়। আপনি তাদের কিনতে বলুন
(প্রয়োজনীয় টাকা প্রদান করুন)অথবা সবচেয়ে ভাল হয় আপনি যদি নিজে তাকে কিনে দেন।
তাতে সন্তান বুঝতে পারবে তার প্রতি মা-বাবা যত্নশীল।
৬।
একই খাবার সবাইকে দিবেন যাতে সন্তান আপনার মুখের উপর বলে না বসে, “আমি কি তোমাদের
সতমেয়ে”।
৭।
একই খাবার না দিতে পারলে তাদের বলুন= আজকে তাকে দিচ্ছি কাল তোকে দেব। অথবা এ-টুকু
নাও! সে বা তারা ছোট, ওরা না হয় একটু বেশি খেল! এভাবে বুঝিয়ে বলুন।
ডা: বিধান চন্দ্র মন্ডল
No comments:
Post a Comment